রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৭

মহাশূন্যে খুঁজে পাওয়া রহস্যময় গ্রহের কথা- ০১

মহাশূন্যে খুঁজে পাওয়া অজানা রহস্যময় গ্রহের কথা- ০১
তারকাখচিত রাতের আকাশ
আমাদের মহাবিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে লক্ষ-কোটি গ্রহ আর উপগ্রহ। আর সকল গ্রহ তার নিজ নিজ সূর্য্যের পরিক্রমা করছে। কিছু কিছু গ্রহ আছে যেগুলো প্রকৃতির অদ্ভত খেয়ালে গড়ে উঠেছে। আজ এমনিই কতগুলো গ্রহ সর্ম্পকে লিখব যেটা পড়ার পরে আপনাকে বলতেই হবে “Wow….”!!

মহাশূন্যে খুঁজে পাওয়া অজানা রহস্যময় গ্রহের কথা
TrES-2b গ্রহ
TrES-2b নামের গ্রহটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে কালো এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রহ। গ্রহটি আমাদের সৌরমন্ডল বা সোলার সিষ্টেম থেকে প্রায় ৭৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। TrES-2b -এর বিশেষত্ব হলো গ্রহটিতে কোন আলো পড়লে সেই আলোর মাত্র ১% প্রতিফলিত হয়। এই গ্রহের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি শুধু কালোই নয় কোথাও কোথায় হালকা লালটে ধরনের। এটাকে অনেকটা বড় আকারের জ্বলন্ত কয়লার মত মনে করা যেতে পারে। গ্রহটির তাপমাত্র প্রায় ১৮০০° ফারেনহাইট। বিজ্ঞানীরা ধারনা করে থাকে যে, এত বেশী তাপমাত্রার কারনে গ্রহটিতে ধোয়ার কুন্ডলী থাকতে পারে, যে কারনে গ্রহটিতে কোন আলো প্রতিফলিত হতে পারে না।

মহাশূন্যে খুঁজে পাওয়া অজানা রহস্যময় গ্রহের কথা
Janssen বা 55 Cancri e গ্রহ
55 Cancri e বা Janssen নামক গ্রহটি এমন একটি গ্রহ যার কথা শুনলে আপনার স্ত্রী কিংবা গার্লফ্রেন্ড খুশি হয়ে যাবে। এটি সম্ভবত এমন একটি গ্রহ যেটা মহিলাদের খুব পছন্দের। গ্রহটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে জাজ্বল্যমান গ্রহ। আর এমনটি হওয়ার কারন গ্রহটির সম্পূর্নটা ডায়মন্ড বা হীরা দ্বারা গঠিত। জ্বী, আপনি ঠিকই পড়েছেন। এই গ্রহটিতে এত ডায়মন্ড বা হীরা আছে যে, তার পরিমান আমাদের প্রিয় পৃথিবীর দ্বিগুণেরও বেশি। এতে আছে প্রচুর পরিমানে কার্বন, যা কিনা খুবই ঘন আর এই কারনেই এগুলো ডায়মন্ড বা হীরা রুপে পাওয়া যায়। দুঃসংবাদ হচ্ছে গ্রহটির পুথিবী থেকে প্রায় ৪০.৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ১ আলোকবর্ষ দূরত্ব মানে ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল। এখন কল্পনা করে দেখুন কতটা দূরে রয়েছে গ্রহটি। আর ভবিষ্যতে আমরা যদি কোন দ্রুতযান তৈরি করেও ফেলি তবে পৃথিবীতে এত ডায়মন্ড পাওয়া যাবে যে, ডায়মন্ডের কোন মূল্যই থাকবে না। তাই শুধু কল্পনাতেই খুশি থাকা ভাল।


মহাশূন্যে খুঁজে পাওয়া অজানা রহস্যময় গ্রহের কথা
Gliese 436 b বা GJ 436 b গ্রহ
এবার বলবো Gliese 436 b এর কথা যাকে মাঝে মাঝে GJ 436 b বলা হয়। আপনি কি জীবনে কখনো বরফের মধ্যে আগুন জ্বলতে দেখেছেন? হ্যাঁ আশ্চার্যজনভাবে এমনটাই ঘটে এই গ্রহে। গ্রহটিকে তুলনা করা যেতে পারে অনেক বড় একটি বরফ খন্ডের সাথে। তবে গ্রহটির তাপমাত্রা আশ্চার্যজনকভাবে ৮২২° ফারেনহাইট। আর এই অতি তাপমাত্রার কারনে বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলছে। এখন মনে প্রশ্ন আসবে, যদি আগুন জ্বলতে থাকে তবে বরফ গলছে না কেন? কারনটি হচ্ছে, গ্রহটির মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। গ্রহটির মাধ্যাকর্ষন শক্তি এতটাই প্রবল যে, বরফ যখনই তাপ পেয়ে বাষ্প হয়ে উপরে উঠতে যায়, তখনই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি তাকে আবার গ্রহের দিকে টেনে আনে। ফলে বাষ্প আবার বরফে পরিনত হয়। ব্যাপারটি আমার কাছে কিছুটা খটকা লিগেছিল। কিন্তু উইকিপিডিয়াতে কিছু তথ্যের কারনে ব্যাপারটি আমার কাছে পরিষ্কার হয়েছে।

মহাশূন্যে খুঁজে পাওয়া অজানা রহস্যময় গ্রহের কথা
HD 189733 b গ্রহ
কল্পনা করুন তো! আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন আর তখনই শুরু হলো কাঁচের বৃষ্টি। কেমন হবে ব্যাপারটা? হ্যাঁ এমটাই ঘটে HD 189733 b নামক গ্রহটিতে। গ্রহটি সিলিকন কণায় পরিপূর্ণ। আর এই কারনে গ্রহটির রং নীল। এই গ্রহের উপরের বায়ুস্তরের তাপমাত্রা এতটাই বেশী যে, বায়ুমন্ডলে থাকা সিলিকন কণাগুলো কাঁচে রুপান্তরিত হয় এবং ৪০০০ মাইল প্রতি ঘন্টা গতিতে বাতাসের সাথে ঘুরতে থাকে। এর ফলে কাঁচ বৃষ্টির হয়ে থাকে।

মহাশূন্যে খুঁজে পাওয়া অজানা রহস্যময় গ্রহের কথা
WASP-12b গ্রহ
WASP-12b গ্রহের কথা বলি এখন। অন্য সব গ্রহের মত এই গ্রহটিও নিজ সূর্য্যের চারদিকে ঘুরতে থাবে। গ্রহটির সূর্য্যের এত কাছে অবস্থিত যে, গ্রহটি একটি আগুনের গোলায় পরিনত হয়েছে। আয়তনে আমাদের Jupiter বা বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে WASP-12b প্রায় দ্বিগুন। খুব কাছাকাছি হওয়ায় সূর্য্যের মাধ্যাকর্ষন শক্তির কারনে প্রতি সেকেন্ড গ্রহটির ৬ বিলিয়ন মেট্রিকটন অংশ সূর্য্যে বিলীন হয়ে যায়। আর গ্রহটি এত দ্রুত সূর্য্যের চারদিক ঘুরছে যে, গ্রহটির আকৃতি গোলাকার থেকে ডিমের আকৃতি হয়ে গেছে।


মহাশূন্যে খুঁজে পাওয়া অজানা রহস্যময় গ্রহের কথা
Gliese 581c বা Gl 581c এবং পৃথিবী
Gliese 581c বা Gl 581c গ্রহটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বর্পূণ গ্রহ। কারন বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অনুযায়ী গ্রহটিতে এলিয়েন থাকার সম্ভাবনা খুবই বেশী। গ্রহটি আমাদের পৃথিবী থেকে সস্পূর্ণ আলাদা ধরনের। কারন গ্রহটি একটি লাল রংয়ের সূর্য্যের পরিক্রমা করছে ফলে আপনি যদি গ্রহটিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকান, তাহলে লাল রংয়ের আকাশ দেখতে পাবেন। কিন্তু অদ্ভত ব্যাপার হচ্ছে গ্রহটি পৃথিবীর মত ঘূর্ণন করছে না। যার ফলে গ্রহটির অর্ধেক অংশে সবসময়ই দিন থাকে আরেক অর্ধেক অংশে সবসময় রাত থাকে। যে অংশ সূর্য্যের দিকে থাকে মানে দিন, সেখানে এত গরম থাকে যে মানুষ অনায়াসে গলে যাবে। অন্যদিকে যে অংশ সূর্য্যের বিপরীত দিকে থাকে মানে রাত, সেখানে এত ঠান্ডা যে আমরা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জমে যাব। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈরিতায় মধ্যে সেখানে প্রানের অস্তিত্ব থাকবে কিভাবে? বিজ্ঞানীদের উত্তর হচ্ছে, গ্রহটির মাঝামাঝি অংশ যেখানে না দিন না রাত, সেখানে প্রানের অস্তিত্ব থাকা খুবই সম্ভব। ২০০৮ সালে বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে Gliese 581c -তে কিছু সংকেত পাঠিয়েছে, যা কিনা ২০২৯ সালে গ্রহটিতে পৌছাবে। যদি সেখানে এলিয়েন থাকে তবে আশা করাই যেতে পারে যে, তাদের পক্ষ থেকেও জবাব আসবে।

পরবর্তী লেখাতে আরো কিছু গ্রহের অদ্ভত কিছু তথ্য নিয়ে হাজির হব। সে পর্যন্ত ভাল থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only

Start typing and press Enter to search