শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের অমিমাংসিত রহস্য- ০১

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে দুর্ঘটনা কবলিত বিমান (প্রতীকী)
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল (কেউ কেউ একে শয়তানের ত্রিভূজ বলে থাকে) আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিস্তির্ণ এলাকা যেটা ফ্লোরিডা থেকে বারমুডা দ্বীপ এবং পুয়ের্তো রিকো হয়ে আবার ফ্লোরিডা পর্যন্ত ত্রিভুজাকৃতির রেখায় সীমাবদ্ধ। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমিমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। শত শত মানুষ, অসংখ্য নৌকা, জাহাজ, উড়জাহাজ এই ট্রাইঙ্গেলের মধ্যে অদৃশ্য হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞান বরাবরই এইসব অদৃশ্যমান হওয়াকে নিছক গল্প বলে উড়িয়ে দিয়েছে যদিও বিজ্ঞান ৫২২ বছরের এই রহস্যময় জায়গাটার মধ্যে অর্ন্তধামের কোন কুল কিনারা করতে পারেনি। আজ আমরা এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের একটি বিস্ময়কর ঘটনা বর্ণনা করবো।

ডিসেম্বর ১৯৪৫ সালে একটি ঘটনা পুরো পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেয়। আমেরিকার সরকার থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীরা হতভম্ব হয়ে যায়। ফ্লোরিডাতে তখন দুপুর ২টা বেজে ১০ মিনিট, যখন আমেরিকান পাঁচ টর্পেডো বোমারু বিমান নেভি এয়ারবেইস থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ফ্লাইট ১৯ নামে পরিচিত ৫টি জঙ্গী বিমান ৩ ঘন্টার রুটিন মিশনের জন্য বের হয়। এই বিমানের ছিল ইউএস নেভির ১৪ জন প্রশিক্ষিত জওয়ান। বিমানগুলো উদ্দেশ্য ছিল ১২০ মাইল পূর্ব দিকে এবং তারপর ৭৩ মাইল উত্তর দিকে যাওয়ার। আর তারপর আবার ১২০ মাইল পিছনে ফ্লোরিডা ফেরত আসার কথা ছিল। ফ্লাইট ১৯ লীড করা বিমানটি গত ৬ মাস যাবৎ “ফরমুলা ত্রিভুজ” উড়ানের জন্য প্রশিক্ষন নিচ্ছিল। ইউএস নেভি অফিসাররা বৌমানিকদের যোগ্যতা নিয়ে নিশ্চন্ত ছিল। কিন্তু এই উড়ানের প্রায় ২ ঘন্টা পর এয়ারবেইসে পাঠানো তাদের বার্তা শুনে সবাই আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়লো। বর্তাটি ছিল, “আমার কম্পাসটি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে, আর ব্যাকআপ কম্পাসটিও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমি জানিনা এই মুহূর্তে আমি কোথায়। আমার সামনে শুরু সবুজ পানি দেখতে পাচ্ছি, তাছাড়া আর কিছুই দেখছি না। আমার জানা নেই আমি কোথায় যাচ্ছি।” এয়ারবেসের সাথে ফ্লাইট ১৯ এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এয়ারবেসের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে হারানো বিমানগুলোর অনুসন্ধান শুরু হয়ে যায়। খোঁজাখুঁজি শুরু করার পর প্রায় ২ ঘন্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুধু একটি রেডিও বার্তা শোনা যায়। বার্তাটিতে টীম লিডার অন্য সদস্যদের আদেশ দিচ্ছিল এই বলে যে, “বিমানের ইন্ধন শেষ হয়ে গিয়েছে, পুরো টীম বিমানগুলো থেকে লাফিয়ে নামার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও।” এই ঘটনায় এয়ারবেইসের অফিসারগন হতভম্ব হয়ে যায়। কিন্তু এরপর যা হয় তা ছিল আরও চমকপ্রদ। ইউএস নেভি রাডারের মাধ্যমে খোঁজ পায় যে, টর্পেডো বিমান বাহামাস আর ফ্লোরিডার পূর্বদিককার সমুদ্র সৈকতে আছে। তখন ঘড়িতে সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিট বাজছিল। ইউএস নেভি ১৩ সদস্যের সার্চ টীমকে ফ্লাইং বোটের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযানে পাঠানোর সিন্ধান্ত নেয়। এখানে জানিয়ে রাখা ভাল ফ্লাইং বোট এমন এক ধরনের বিমান যা কিনা আকাশে উড়ার সাথে সাথে সমুদ্র বা পানিতেও চলতে পারে। আকাশে উড়ার তিন মিনিট পর ক্যাপ্টেন এয়ারবেইসে বার্তা পাঠায়, ”সার্চ মিশন চালু আছে, আমি সামনে কোন প্রতিবন্ধকতা দেখতে পাচ্ছি না। সবকিছু ঠিকমত চলছে।” কিন্তু বার্তা পাঠানো কিছু সময় পর সার্চ বিমানটির সাথেও এয়ারবেইসের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ক্যাপ্টেনসহ ফ্লাইং বোটটি কোথায় গেল তার কোন খোঁজ পাওয়া গেল না। পরবর্তীতে ফ্লোরিডার একটি তেলবাহী জাহাজ দাবি করে যে, সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তারা আকাশে একটি বিস্ফোরণ দেখতে পায়। কিন্তু বিস্ফোরণের পর তারা কোন ধ্বংসবশেষ খুজে পায়নি। ৫ বিমানের সাথে সাথে সার্চ বিমানটিও রহস্যময়ভায়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই ঘটনা সারা বিশ্বের বিজ্ঞানিদের নজরে আসে। ফ্লাইট ১৯ এর ১৪ জন এবং সার্চ বিমানের ১৩ জন সদস্যের খোজ পাওয়ার জন্য আমেরিকা ইতেহাসের অন্যতম বড় অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু তারা অক্লান্ত পরিশ্রমের পরও কোন কূল-কিনারা পায় না। তারা না পায় বিমানের ধ্বংসবশেষ, না পায় কোন মৃত শরীর। প্রায় এক মাস পর ৬টি বিমান আর তার ২৭ জন সদস্যে অনুসন্ধান বন্ধ করে দেওয়া হয়। 


টর্পেডো বিমানগুলো কোাথায় গেল? তার ১৪ সদস্যের কি হলো? টর্পেডো বিমান কি সামুদ্রিক ঝড়ের মধ্যে পরেছিল? টর্পেডো বিমান যদি ঝড়ের কবলে পরে তবে ফ্লাইং বোট কেন হারিয়ে গেল? কোন প্রশ্নেরই উত্তর আজও মিলেনি। হয়তো বিলবে ভবিষ্যতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের অমিমাংসিত রহস্যগুলোর মধ্যে একটি।

এতক্ষন ধৈর্য্য ধরে ঘটানাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আমাদের সাথেই থাকুন। ভবিষ্যতে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের আরও কিছু অমিমাংসিত রহস্য নিয়ে হাজির হব আপনাদের সামনে। সেই পর্যন্ত ভাল থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only

Start typing and press Enter to search