শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৭

এরিয়া ৫১ কি? এটা এত রহস্যময়ই বা কেন?

এরিয়া ৫১ কি এটা এত রহস্যময়ই বা কেন
এলিয়েনের প্রতীকী ছবি
আসলেই কি এমন কোন জায়গা আছে যেখানে এলিয়েন বিষয়ক গবেষনা করা হয়? আর এমন কোন স্থান আছে, যেখানে UFO (Unidentified Flying Object) লুকানো? অথবা এমন জায়গা আছে কি যেখানে এ্যাডভান্স টেকনোলজি নিয়ে পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে? আর এই স্থানকে কি এরিয়া ৫১ বলা হয়? বেশ মজাই লাগে এইসব কথা শুনে, তাই না? কারন আমারা ছোটবেলা থেকেই এলিয়েন বিষয়ক সিনেমা দেখে আসছি। যেগুলোতে দেখানো হয় যে, এলিয়েন আমাদের পৃথিবীতে আসে, আমাদের উপর হামলা করে তারপর আমরা তাদের উপর হামলা করি। বিষয়গুলো এত সহজ-সরলভাবে দেখানো হলেও, বিষয়টা মোটেও সহজ নয় বরং এলিয়েন ধারনার পুরোটাই রহস্যময়। যদি আমরা Conspiracy Theory -এর কথা বলি, তবে তত্ত্ব অনুযায়ী বেশ কয়েকবারই এলিয়েন আর মানুষের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। সম্ভবত এখনো হয়। আর এই বিষয়েও লোকজন সন্দেহ করে যে, সম্ভবত কিছু Secret Society আছে যারা এলিয়েন আর এলিয়েনের সাথে সর্ম্পকিত বিষয়ে গবেষণা করছে। আবার কিছু Conspiracy Theory অনুযায়ী সেই গবেষনার জায়গাগুলোর একটি হচ্ছে এরিয়া ৫১। এই লেখায় আমরা এরিয়া ৫১ এবং এর রহস্যগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।

শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন, আসলেই কি এরিয়া ৫১ নামক কোন জায়গা আছে? যাদের উত্তরটি জানা নেই তাদেরকে বলছি, আসলেই এরিয়া ৫১ নামক একটি স্থান আছে এবং সেখানে আমেরিকা গোপনীয়ভাবে অনেক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। এরিয়া ৫১ আমেরিকার নেভাডাতে অবস্থিত ইউএস আর্মি এবং ইউএস এয়ার ফোর্সের একটি গোপনীয় স্থান, যার স্থাপনা ১৯৫৫ সালে হয়েছিল। এটা আমেরিকার প্রতিরক্ষার ব্যবস্থার একটি গুরুত্ত্বপূর্ন অংশ। এটি লম্বায় ৩৭ কিঃমিঃ এবং চওড়ায় ৪০ কিঃমিঃ দীর্ঘ। 

দেখা যায় যে, এরিয়া ৫১ আমেরিকার সবচেয়ে বদনাম অর্জন করা জায়গা। আমেরিকান সরকার কখনো এরিয়া ৫১ এর কথা স্বীকার করেনি। অবশেষে ২০১৩ সালে CIA (Central Intelligence Agency) একটি রির্পোটে স্বীকার করে যে, এরিয়া ৫১ নামক একটি জায়গা নেভাডাতে আছে। সাথে সাথে এটাও বলে যে, সেখানে এলিয়েনদের নিয়ে কোন ধরনের গবেষনা হচ্ছে না।


এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে জায়গাটার নাম এরিয়া ৫১ কেন? নামটা কেমন একটু রহস্যময় লাগে, তাইনা? আসল ঘটনা হচ্ছে, নেভাডাতে এটমিক এনার্জি, এটমিক বোমা, নিউক্লিয়ার বোমা এবং নতুন তৈরীকৃত অস্ত্র যেমন- বন্ধুক, মিসাইল, ট্যাংক আর এয়ার ক্রাফ্টের পরিক্ষা করা হয়। কাজের সুবিধার জন্য নেভাডার কোন এলাকা কোন কাজে ব্যবহৃত হবে সেটা আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। যেমন- ট্যাংকের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা, এয়ার ক্রাফটের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা এভাবে। আর সেই অনুযায়ী সংখ্যা দ্বারা এলাকাগুলো নামকরণ করা হয়। এলাকাগুলোর মধ্যে ৫১তম জায়গাটাই হচ্ছে এরিয়া ৫১। 

এখন এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তার কথা বলা যাক। এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী এবং দুর্ভেদ্য যে, এটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা বলে পরিচিত। পুরো এলাকাটি বৈদ্যুতিক কাঁটাতার দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ফলে শুধু মানুষ কেন, কোন প্রানীর পক্ষে ভিতরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। কাঁটাতারের কথা বাদ দিলেও সেখানে অনেক উচ্চ প্রশিক্ষিত গার্ড রয়েছে, যারা এরিয়া ৫১ -এর বিশেষ খেয়াল রাখে। ধরে নেই আপনি কাঁটাতার এবং গার্ডদের ফাঁকি দিয়ে ভিতরে ঢুকে পরেছেন কিন্তু তাতেও রক্ষা নেই। ‍পুরো এলাকাটিতে বসানো আছে বিশেষ ধরনের ক্যামেরা যাতে আছে মোশন সেন্সর। মানে হচ্ছে, ঐ ক্যামেরার আওতার মধ্যে কোন কিছু নড়াচড়া করলেই বিপদসংকেত ধ্বনি বেজে উঠবে আর আপনি ধরা পড়ে যাবেন। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে আপনি যদি পূর্বানুমতি না নিয়ে এরিয়া ৫১ -এ প্রবেশ করার চেষ্টা করেন তাহলে দূর থেকেই আপনাকে গুলি করা হবে। Fred Dunham যিনি এরিয়া ৫১ এর একজন অবসরপ্রাপ্ত গার্ড, তিনি National Geographic চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন যে, তাদের কাছে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া ছিল যে, কেউ অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে কোন প্রকার দ্বিধা ছাড়াই গুলি করতে হবে। অনুপ্রবেশকারী বাঁচুক কিংবা মরুক। এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা এতটাই কঠোর যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্টও অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। এখানে প্রবেশ তো দূরের কথা ভেতরের গতিবিধি বা কী ঘটছে কিছুই আন্দাজ করা সাধারণ মানুষ এমনকি প্রেসিডেন্টের পক্ষেও সম্ভব নয়।

এবার আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে। এই কথা কি সত্যি যে, এরিয়া ৫১ এলিয়েন বা এলিয়েন সাথে আনুষঙ্গিক বিষয়ে গবেষণা করছে? যদি এই কথার কোন সত্যতা থাকে তবে এর প্রমান কি? সর্বপ্রথম ১৯৭৯ সালে এরিয়া ৫১ এবং এর সাথে জড়িয়ে এলিয়েন নিয়ে Conspiracy Theory জনসম্মুখে আসে। ঐ সময় লস ভেগাসের এক নিউজ চ্যানেলের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে Robert Scott Lazar বলেন যে, তিনি এরিয়া ৫১ এর একজন বিজ্ঞানী হিসাবে কাজ করতেন। তার কাজ ছিল উরন্ত জিনিস থেকে যেমন- UFO থেকে এনার্জির মূখ্য স্রোতকে বের করা। এরমধ্যে ঐ UFO -টিও ছিল, যেটা ১৯৪৭ সালে নিউ মেক্সিকোর রজওয়েল শহরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। ঐ UFO -টির মধ্যে লোকজন একটি এলিয়েন মৃতদেহ পেয়েছিল। তারা বিশ্বাস করে যে, এখনও সেই UFO আর এলিয়েনের উপর গবেষণা করা হচ্ছে। লজওয়েলে এই Conspiracy Theory -এর উপর বহু লোক তাদের মতমত প্রদান করেন। এর মধ্যে কিছু সরকারী কর্মকর্তা বলেন যে, “রজওয়েল শহরে যে বস্তুটি পাওয়া যায় সেটা আসলে কোন এলিয়েন যান নয়। বস্তুটি মূলত এরিয়া ৫১ -এর নির্মান করা একটি বিমান ছিল এবং পরিক্ষা করার সময় দুর্ঘটনা কবলিত হয়। ঐ সময় আমেরিকা তাদের কর্তৃত কায়েম করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ের মধ্যে গোয়েন্দাগিরি করার জন্য নতুন ধরনের বিমান তৈরী চেষ্টা করছিল। ঐ বিমানটির আজব গঠন দেওয়া হয়েছিল যাতে কোন দেশের রাডার বিমানটি সনাক্ত করতে না পারে। এই অবস্থায় বিমানটি যখন বিধ্বস্ত হয় সাধারণ মানুষ তাকে এলিয়েন যান হিসেবে ধরে নেয়।” আবার কিছু লোক বলে যে তারা নিজের চোখে এলিয়েনের মৃতদেহ দেখতে পেয়েছিল। কোনটা সত্যি! সরকারী তথ্য নাকি সাধারণ মানুষের চাক্ষুষ প্রমান। 


চলুন আমরা আরো একজন মানুষের সাথে পরিচিত হই। ২০১৪ সালে এরিয়া ৫১ -এর সাবেক বৈমানিক প্রকৌশলী Boyd Bushman তার রেকর্ডকৃত স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দি/বার্তায় বলেন যে, সে এরিয়া ৫১ -এ কর্মরত থাকা অবস্থায় UFO, এলিয়েন যানের উপর বিশেষ ধরনের কাজ করেছেন। আর তিনি এই প্রজেক্টের লিডিং টীমের গুরুত্বপূর্ন সদস্য ছিলেন। যেহেতু সে লিডিং টীমের অংশ ছিলেন, তাই এরিয়া ৫১ -এর যেসব ঘটনা ঘটছিল আর যেসব প্রজেক্টের কাজ চলছিল তার বেশিরভাগ তথ্যই Boyd Bushman এর জানা ছিল। Bushman বলেন যে, এরিয়া ৫১ -এ মানুষ তো কাজ করছিলই, তাদের সাথে সেখানে এলিয়েনরাও তার টীমের সদস্য হিসেবে ছিল। Bushman তথ্য দেন যে, তিনি ৩৮ ফুটের ডায়ামিটারের একটি UFO -এর উপর কাজ করেছিল যা কিনা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আধুনিক আকাশযান। অনেকেই Boyd Bushman -এর উপস্থাপিত দালিলিক প্রমানগুলো বিশ্বাস করে আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করে না। তবে আমেরিকার সরকার উপস্থাপিত বিষয়গুলো অস্বীকার করে বলে যে, Boyd Bushman কখনোই এরিয়া ৫১ -এ কাজ করেনি। এখন Boyd Bushman যদি সত্যিই এরিয়া ৫১ -এ কাজ করে থাকে তবুও আমেরিকার সরকার তা স্বীকার করবে কি? Boyd Bushman তার বক্তব্য দেওয়ার কিছুদিন পর আকর্ষিকভাবে মারা যায়। 

এতকিছুর পরেও প্রশ্ন কিন্তু থেকে যায়, আসলে এরিয়া ৫১ এর রহস্যটা কী? ভবিষ্যতে আরো তথ্য নিয়ে হাজির হব। এতক্ষন ধৈর্য্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। লেখাটিতে যদি কোন ভুল থাকে আমাদের জানাবেন। ভাল থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only

Start typing and press Enter to search